শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
প্রতিদিন ডেস্কঃ
একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক তীব্র আলোড়ন। বাঙালি জাতীয়তাবোধ সাম্য-সম্প্রীতি বা অসাম্প্রদায়িক বোধের বিকাশ ঘটে এই একুশের প্রেক্ষাপটেই। এ কারণে কবিতায় উচ্চারিত হয়- ‘ভাষা মানে সভ্যতার সংবিধান। ভাষা মানে সন্ধ্যের তুলসীতলা, ভোরের আজান।
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির এক গৌরবময় অধ্যায়। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাগরণের চেতনা। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা। ’ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে ভাষার মাস।
বসন্তের শিমুল পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার দিকে তাকালে মনে পড়ে ভাষার কথা। ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের কথা। মনে পড়ে উজ্জ্বল সাহস নিয়ে দাঁড়ানো শহীদ মিনারের কথা। এ মাস সুন্দর স্বপ্নময় দিনের চেতনার-ভালোবাসার।
‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে /তবে একলা চলো রে’-এই বোধকে জাগ্রত করে। এই চেতনা মুক্তি যুদ্ধের, স্বাধীনতার।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। পরে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনে মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে।
কালো ব্যাজ পরে, খালি পায়ের প্রভাত ফেরি সমবেত কণ্ঠের গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি…। ’ বায়ান্নর এই একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ বাংলার তরুণ-যুবকরা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে যে সাহসী সংগ্রামের পথ তৈরি করেছিলেন, সে পথ ধরেই তো আসাদ-মতিউরের মতো কত প্রাণ আত্মদান করেছেন মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষার জন্য। আর মুক্তিযুদ্ধে ঝরে গেছে ত্রিশ লাখ প্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির অপরিসীম শক্তির প্রতীক।
বাঙালির ইতিহাসে অসংখ্য উজ্জ্বল মাইলফলক আছে যা অর্জনের সমৃদ্ধিতে উজ্জ্বল। বাংলা ও বাংলা ভাষাভাসীর ইতিহাসে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ইউনেস্কোর সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি বাঙালির জন্য এক উজ্জ্বল মাইলফলক সূচক। এ সিদ্ধান্তের দুটো দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য (ক) আন্তর্জাতিক; (খ) আমাদের ক্ষেত্রে দেশীয়। প্রথমত, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৪০০০-এর ওপর ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশে বাঙালির সম্পদ, অব্যয়- চির অক্ষয় এ সম্পদ। এই অমর একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিহিত রয়েছে বাঙালির জাতিসত্তা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্যের মৌলবীজ। সুতরাং অমর একুশকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালির প্রতীকী বিজয় নির্দেশিত হয়েছে। এবং ভাষা শহীদদের আত্মদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে।