
আরমান হোসেন খান,চীফ রিপোর্টারঃ
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের কর্মযজ্ঞ চলছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। নির্বাচনি আচরণবিধি খসড়া বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে গতকাল। স্টেকহোল্ডারদের একগুচ্ছ মতামত এসেছে ইসির টেবিলে। বর্তমানে এসব মতামত পর্যালোচনা করছেন ইসির কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক কাজ নিয়ে ‘কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে’ মাঠ কর্মকর্তাদের তথ্য পর্যালোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন পৌরসভা আর ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে এ নির্বাচন শুরু করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরেই নির্বাচন শুরু পরিকল্পনা নিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। তার আগেই সরকারের সঙ্গে এসব নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করবে ইসি।
এদিকে রবিবার ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভায় প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। নির্বাচন উপযোগী দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদের বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ভোটের প্রস্তুতির লক্ষ্যে আচরণবিধি হালনাগাদ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য আলাদা আচরণবিধির খসড়ার বিষয়ে মঙ্গলবার মতামত গ্রহণ শেষ করেছে ইসি।
এমন পরিস্থিতি রবিবার অনানুষ্ঠানিক সভায় সার্বিক অগ্রগতির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজের অংশ হিসেবে আলোচনা চলছে। তবে সরকারের তরফ থেকে এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি আসেনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘রবিবার আমরা আলোচনা করেছি প্রাথমিকভাবে, প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে। আমরা অক্টোবরকে একটা টার্গেট ধরে কাজ করছি।
মাঠপর্যায়ের সব তথ্য আমরা পেয়ে গেছি, কতটি ভোট প্রতিষ্ঠান এখন প্রস্তুত রয়েছে। কিছুসংখ্যক ছাড়া সবই প্রস্তুত আছে। ’ তিনি জানান, ‘পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন-এগুলোতে এখন প্রশাসক রয়েছে সরকারের। ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধি শুধু রয়েছে। আমরা হিসাব নিয়েছি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কতগুলো ২০২৬ সালে ও ২০২৭ সালে নির্বাচন করা যায়। অল মোস্ট সবই করা যায়। আমরা আলোচনা করব (সরকারের সঙ্গেও), নিড বেসিসে করব। যদি এবার বন্যা হয় তাহলে পৌরসভা দিয়েও আমরা শুরু করতে পারি নির্বাচন। অথবা ইউনিয়ন থেকে শুরু করতে পারি। ’ আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘পৌরসভা আর ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এবার (প্রথম ধাপে) আপাতত আমাদের পরিকল্পনা নেই। এ দুটি দিয়ে নির্বাচন শুরু করতে হবে। সিটি করপোরেশনে প্রশাসক রয়েছে। ’ এ নির্বাচন কমিশনার মনে করেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ধাপে ধাপে দুই শ/আড়াই শ/তিন শ করে যেভাবে করা হতো, সেভাবে হতে পারে। পৌরসভা এক দিনে করা হবে নাকি ধাপে ধাপে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ৩৩০টা এক দিনে করা যায় কি না, চেষ্টা করব আমরা; অসম্ভব বলে মনে করি না। ’
প্রস্তুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি সংশোধনের কাজে হাত দিয়েছে তারা, নিয়েছে অংশীজনের মতামতও। মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনা চলছে। বর্ষা মৌসুম, বার্ষিক পরীক্ষা, ভৌগোলিক অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরে ভোটের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) গুছিয়ে নিচ্ছেন ইসি কর্মকর্তারা। মধ্য আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কোন নির্বাচন কবে শুরু হবে, তা নির্ধারণ করা হতে পারে। সংসদে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে’ আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনের বিষয়ে মঙ্গলবার জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা অক্টোবরকে একটা টার্গেট ধরে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ের সব তথ্য আমরা পেয়ে গেছি যে কতটি ভোটের জন্য এখন প্রস্তুত রয়েছে। আমরা হিসাব নিয়েছি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কতগুলোর ২০২৬ ও ২০২৭ সালে নির্বাচন করা যায়; প্রায় সবই করা যায়। আমরা আলোচনা করব (সরকারের সঙ্গেও), “নিড বেসিসে” করব। ’